ঢাকা ১১:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এবিএম মোশাররফ হোসেনকে মন্ত্রি হিসেবে চায় এলাকাবাসী মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে জামায়াত ইসলাম: ওয়ালিউদ্দিন তানভির আমাদের জীবনের প্রথম অগ্রাধিকার ইসলাম : সালাহউদ্দিন আহমদ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করতে যমুনায় ৩ বাহিনীর প্রধান রক্তাক্ত ২৮ অক্টোবরের শহীদদের পরিবারের সাথে জামায়াতে ইসলামীর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ওয়েস্টার্ন গ্রুপ ও কাতার এয়ারওয়েজের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত জার্মান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত শিবচরে বিএনপির ৩১ দফা বাস্তবায়নে লিফলেট বিতরণ আ.লীগের ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে যা বললেন বিএনপি মহাসচিব যে কারণে স্বর্ণের দামে বড় পতন

রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘পুতিন-ট্রাম্প টানেল’ নির্মাণের প্রস্তাব

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:১৮:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫ ৭৯ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রকে সংযোগ করার এই ধারণা নতুন নয়—প্রায় ১৫০ বছর আগেও এমন প্রস্তাব উঠেছিল। ছবি: প্রতীকী

যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়াকে সংযুক্ত করতে সমুদ্রের নিচ দিয়ে একটি বিশাল টানেল নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন ক্রেমলিনের এক দূত। টানেলটি বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্কের কোম্পানি দ্যা বোরিং কোম্পানি সাহায্য করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শনিবার (১৮ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে

ক্রেমলিনের বিনিয়োগবিষয়ক দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ বলেন, সাইবেরিয়া থেকে আলাস্কা পর্যন্ত ১১২ কিলোমিটার (প্রায় ৭০ মাইল) দীর্ঘ এই ‘রেলপথ ও পণ্যবাহী সংযোগ’ দুই দেশের মধ্যে ‘যৌথ সম্পদ অনুসন্ধান ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা’র সুযোগ সৃষ্টি করবে। খবর আল জাজিরার। 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার (১৭ অক্টােবর) ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের সময় এই প্রস্তাবকে ‘আকর্ষণীয়’ বলে মন্তব্য করেন।

বৈঠকের সময় ট্রাম্প জেলেনস্কিকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি টানেল প্রকল্পটি সম্পর্কে কী ভাবেন। জেলেনস্কি উত্তর দেন, ‘আমি এই ধারণা নিয়ে খুশি নই।’

রাশিয়ান ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (আরডিআইএফ) প্রধান নির্বাহী দিমিত্রিয়েভ আরও প্রস্তাব করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে যৌথভাবে আর্কটিক অঞ্চলে ‘হাইড্রোকার্বন প্রকল্পে’ অংশ নিতে পারে। তিনি বলেন, ‘নিশ্চিতভাবেই রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে যৌথ জ্বালানি প্রকল্পে আগ্রহী, বিশেষ করে আর্কটিক অঞ্চলে।’

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মেরু অঞ্চলের বরফ গলতে থাকায় রাশিয়া ও অন্যান্য আর্কটিক দেশগুলো সেখানে খনন কার্যক্রম বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।

দিমিত্রিয়েভ আরও বলেন, মাস্কের দ্যা বোরিং কোম্পানি প্রকল্পটিতে যুক্ত হতে পারে। এ নিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ইলন মাস্ককে ট্যাগ করে লেখেন, ‘চলুন আমরা একসঙ্গে ভবিষ্যৎ গড়ি।’

তিনি পোস্টে লেখেন, ‘ভাবুন তো, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া, আমেরিকা ও আফ্রো-ইউরেশিয়াকে যুক্ত করছে ‘পুতিন-ট্রাম্প টানেল’। এটি ঐক্যের প্রতীক হবে।’

শুক্রবার (১৭ অক্টােবর) রাত পর্যন্ত ইলন মাস্ক দিমিত্রিয়েভের ওই পোস্টে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।

দিমিত্রিয়েভের এই টানেল প্রচারণা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ট্রাম্প ও পুতিন প্রায় দুই ঘণ্টার ফোনালাপে কথা বলেছেন এবং হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে দুই সপ্তাহের মধ্যে এক বৈঠকের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। ক্রেমলিনও বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।বেরিং প্রণালী, যার সর্বনিম্ন প্রস্থ প্রায় ৮২ কিলোমিটার (৫১ মাইল), রাশিয়ার দূরবর্তী চুকচি উপদ্বীপকে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কার সঙ্গে বিভাজিত করে রেখেছে।

রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রকে সংযোগ করার এই ধারণা নতুন নয়—প্রায় ১৫০ বছর আগেও এমন প্রস্তাব উঠেছিল। প্রণালীর মাঝখানে রয়েছে দুটি ছোট দ্বীপ—বিগ ডিওমিড (রাশিয়ার) এবং লিটল ডিওমিড (যুক্তরাষ্ট্রের)—যাদের মধ্যে দূরত্ব মাত্র ৪ কিলোমিটার (২.৪ মাইল)।

দিমিত্রিয়েভ বলেন, ঠান্ডা যুদ্ধের সময় একসময় “কেনেডি-খ্রুশ্চেভ ওয়ার্ল্ড পিস ব্রিজ” নির্মাণের ধারণা তোলা হয়েছিল। তিনি সেই সময়কার এক মানচিত্রও শেয়ার করেন, যেখানে দেখানো হয়েছে নতুন টানেলটি কোন রুটে তৈরি হতে পারে।

তার ভাষায়, ‘মানব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মহাদেশগুলোকে একসঙ্গে যুক্ত করার সময় এখন এসেছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘পুতিন-ট্রাম্প টানেল’ নির্মাণের প্রস্তাব

আপডেট সময় : ০৬:১৮:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রকে সংযোগ করার এই ধারণা নতুন নয়—প্রায় ১৫০ বছর আগেও এমন প্রস্তাব উঠেছিল। ছবি: প্রতীকী

যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়াকে সংযুক্ত করতে সমুদ্রের নিচ দিয়ে একটি বিশাল টানেল নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন ক্রেমলিনের এক দূত। টানেলটি বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্কের কোম্পানি দ্যা বোরিং কোম্পানি সাহায্য করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শনিবার (১৮ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে

ক্রেমলিনের বিনিয়োগবিষয়ক দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ বলেন, সাইবেরিয়া থেকে আলাস্কা পর্যন্ত ১১২ কিলোমিটার (প্রায় ৭০ মাইল) দীর্ঘ এই ‘রেলপথ ও পণ্যবাহী সংযোগ’ দুই দেশের মধ্যে ‘যৌথ সম্পদ অনুসন্ধান ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা’র সুযোগ সৃষ্টি করবে। খবর আল জাজিরার। 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার (১৭ অক্টােবর) ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের সময় এই প্রস্তাবকে ‘আকর্ষণীয়’ বলে মন্তব্য করেন।

বৈঠকের সময় ট্রাম্প জেলেনস্কিকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি টানেল প্রকল্পটি সম্পর্কে কী ভাবেন। জেলেনস্কি উত্তর দেন, ‘আমি এই ধারণা নিয়ে খুশি নই।’

রাশিয়ান ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (আরডিআইএফ) প্রধান নির্বাহী দিমিত্রিয়েভ আরও প্রস্তাব করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে যৌথভাবে আর্কটিক অঞ্চলে ‘হাইড্রোকার্বন প্রকল্পে’ অংশ নিতে পারে। তিনি বলেন, ‘নিশ্চিতভাবেই রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে যৌথ জ্বালানি প্রকল্পে আগ্রহী, বিশেষ করে আর্কটিক অঞ্চলে।’

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মেরু অঞ্চলের বরফ গলতে থাকায় রাশিয়া ও অন্যান্য আর্কটিক দেশগুলো সেখানে খনন কার্যক্রম বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।

দিমিত্রিয়েভ আরও বলেন, মাস্কের দ্যা বোরিং কোম্পানি প্রকল্পটিতে যুক্ত হতে পারে। এ নিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ইলন মাস্ককে ট্যাগ করে লেখেন, ‘চলুন আমরা একসঙ্গে ভবিষ্যৎ গড়ি।’

তিনি পোস্টে লেখেন, ‘ভাবুন তো, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া, আমেরিকা ও আফ্রো-ইউরেশিয়াকে যুক্ত করছে ‘পুতিন-ট্রাম্প টানেল’। এটি ঐক্যের প্রতীক হবে।’

শুক্রবার (১৭ অক্টােবর) রাত পর্যন্ত ইলন মাস্ক দিমিত্রিয়েভের ওই পোস্টে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।

দিমিত্রিয়েভের এই টানেল প্রচারণা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ট্রাম্প ও পুতিন প্রায় দুই ঘণ্টার ফোনালাপে কথা বলেছেন এবং হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে দুই সপ্তাহের মধ্যে এক বৈঠকের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। ক্রেমলিনও বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।বেরিং প্রণালী, যার সর্বনিম্ন প্রস্থ প্রায় ৮২ কিলোমিটার (৫১ মাইল), রাশিয়ার দূরবর্তী চুকচি উপদ্বীপকে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কার সঙ্গে বিভাজিত করে রেখেছে।

রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রকে সংযোগ করার এই ধারণা নতুন নয়—প্রায় ১৫০ বছর আগেও এমন প্রস্তাব উঠেছিল। প্রণালীর মাঝখানে রয়েছে দুটি ছোট দ্বীপ—বিগ ডিওমিড (রাশিয়ার) এবং লিটল ডিওমিড (যুক্তরাষ্ট্রের)—যাদের মধ্যে দূরত্ব মাত্র ৪ কিলোমিটার (২.৪ মাইল)।

দিমিত্রিয়েভ বলেন, ঠান্ডা যুদ্ধের সময় একসময় “কেনেডি-খ্রুশ্চেভ ওয়ার্ল্ড পিস ব্রিজ” নির্মাণের ধারণা তোলা হয়েছিল। তিনি সেই সময়কার এক মানচিত্রও শেয়ার করেন, যেখানে দেখানো হয়েছে নতুন টানেলটি কোন রুটে তৈরি হতে পারে।

তার ভাষায়, ‘মানব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মহাদেশগুলোকে একসঙ্গে যুক্ত করার সময় এখন এসেছে।’