মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে জামায়াত ইসলাম: ওয়ালিউদ্দিন তানভির
- আপডেট সময় : ১০:৩২:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ৩২ বার পড়া হয়েছে
আজ ১৬ ডিসেম্বর—মহান বিজয় দিবস।
এই গৌরবোজ্জ্বল দিনে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী সকল শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। তাঁদের অপরিসীম ত্যাগের বিনিময়েই আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ।
মহান বিজয় আমাদের শিক্ষা দেয়—ন্যায়, স্বাধীনতা ও মর্যাদার প্রশ্নে কোনো আপস নয়। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় এ দেশের মানুষ বারবার শান্তিপূর্ণ গণ-আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। এই চেতনাই আমাদের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করেছে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পথ দেখিয়েছে।
আজকের এই দিনে আমি এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি—যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত থাকবে, আইনের শাসন হবে সুদৃঢ় এবং সকল নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবে। সামনে যে জাতীয় নির্বাচন আসছে, তা যেন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক হয়—এটাই প্রত্যাশা প্রতিটি সচেতন নাগরিকের।
মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্থিতিশীল, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
ইতিহাসের একটি বাস্তবতা হলো—১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামী তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভারতীয় আধিপত্যবাদ, স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র হায়দ্রাবাদ দখল এবং সিকিমে ভারতীয় অনুপ্রবেশের মতো বিভিন্ন সম্প্রসারণবাদী দৃষ্টান্ত বিবেচনায় নিয়ে বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির আশঙ্কায় অখণ্ড পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের সঠিকতা বা ভুলের মূল্যায়ন ইতিহাস ও আপামর জনগণের ওপরই ছেড়ে দেওয়া উচিত।
তবে এটিও স্পষ্ট করে বলতে চাই—জামায়াতে ইসলামী দলীয়ভাবে কখনোই বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা বা নির্যাতনকে সমর্থন করেনি।
দুঃখজনক বাস্তবতা হলো—আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শাসনামলে যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ প্রশ্নবিদ্ধ ও বিচারবহির্ভূত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রাণ হারিয়েছেন, যা ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের পরিপন্থী।
বর্তমান জামায়াত নেতৃত্ব বারবার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে—বাংলাদেশের সংবিধানকে সম্মান করা, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং ১৯৭১ সালে জনগণ, বিশেষত শহীদরা যে ইনসাফভিত্তিক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাজনীতি করাই তাদের অঙ্গীকার।
মহান বিজয় দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক—প্রতিহিংসার নয়, ন্যায়বিচারের; বিভাজনের নয়, ঐক্যের; ক্ষমতার নয়, জনগণের বাংলাদেশের পথে এগিয়ে চলা।
মহান বিজয় দিবস আমাদের সবার জীবনে প্রেরণা হয়ে থাকুক।














